রিসোর্স লাইব্রেরি
ব্লগনিজের যত্ন4 min read

সেলফ এস্টিম (দ্বিতীয় পর্ব)

33 বার দেখা হয়েছে২৪/৭/২০২৬
<p>আমাদের পূর্ববর্তী লেখায় আমরা জেনেছি—সেলফ-এস্টিম কী, সুস্থ সেলফ-এস্টিমের গুরুত্ব এবং নিম্ন সেলফ-এস্টিমের ফলাফল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাইকোথেরাপি ও নিয়মিত কিছু অনুশীলনের মাধ্যমে সেলফ-এস্টিম বাড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, একজন মানুষের সেলফ-এস্টিম যেমন একদিনে গড়ে ওঠে না, তেমনি পরিবর্তনও একদিনে সম্ভব নয়—প্রয়োজন নিয়মিত ও পর্যাপ্ত চেষ্টা।</p> <p><strong>নিজের সম্পর্কে ধারণা উন্নত করার কিছু সাধারণ উপায়:</strong></p> <ul><li><strong>ইতিবাচক চিন্তা করার চেষ্টা করা:</strong> সবার জীবনেই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটো দিকই থাকে। এই চর্চায় শুধু জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করে তা নিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন।</li><li><strong>নিজের গুণাবলি খুঁজে একটি তালিকা তৈরি করা:</strong> নিজের ভালো দিকগুলোতে নজর দিন এবং আরও কী কী গুণ যোগ করতে চান তা তালিকাভুক্ত করে চর্চা শুরু করুন।</li><li><strong>নিজের ভুলগুলো খুঁজে সংশোধনের চেষ্টা করা:</strong> সবারই কিছু আচরণ থাকতে পারে যা নিজের বা অন্যের জন্য উপকারী নয়; সচেতন হয়ে সেগুলো নিয়ে কাজ করা দরকার।</li><li><strong>নিজের সক্ষমতা ও অপারগতা সম্পর্কে জানা:</strong> আমি কী পারি ও কী পারি না, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন। নিজেকে যত পরিষ্কারভাবে জানবেন, নিজের প্রতি বিশ্বাস তত দৃঢ় হবে। মনে রাখবেন, একজন মানুষ সবকিছু পারে না—তাই অন্যের সাথে তুলনা করে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করবেন না।</li><li><strong>বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করা:</strong> নিজের পরিস্থিতি ও সক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে অর্জনযোগ্য পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যান।</li><li><strong>সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া:</strong> কেউ সমালোচনা করলে তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করা বা উপেক্ষা—কোনোটাই উপকারী নয়। ভেবে দেখুন সত্যি কিনা; সত্য হলে সংশোধন করুন, না হলে সেটিকে শুধু "অন্যের মতামত" হিসেবেই দেখুন।</li><li><strong>নিজের সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় কথা উপেক্ষা করতে শেখা এবং অন্যের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা।</strong></li><li><strong>নিজের সম্পর্কে ধারণাগুলো যাচাই করা:</strong> সেগুলো সত্যিই যৌক্তিক কিনা, নাকি নিছক ধারণা।</li><li><strong>জীবনে উত্থান-পতন আসতেই পারে:</strong> নেতিবাচক ঘটনা ঘটলেই জীবন শেষ নয়—এটি মাথায় রাখা।</li><li><strong>নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, বিশ্রাম ও শারীরিক চর্চা:</strong> শরীর সুস্থ থাকলে মন ভালো থাকে, মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে।</li></ul> <p>এই বিষয়গুলো নিয়মিত চর্চা করতে পারলে নিজের সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা নিয়ে সুস্থভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব। প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করে সাইকোথেরাপি নিতে পারেন। কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি গবেষণা-স্বীকৃত একটি প্রক্রিয়া, যা আত্মবিশ্বাস ও সেলফ-এস্টিম গঠনে বেশ কার্যকর।</p>