ব্লগডিজিটাল সুস্থতা3 min read
ডিভাইস আসক্তি
31 বার দেখা হয়েছে২৪/৭/২০২৬
<p>করোনা আমাদের জীবনে এক মারাত্মক ছন্দপতন ঘটিয়েছে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই জীবনে হঠাৎ বাঁক নেওয়া পছন্দ করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার সময়ে গড়ে ওঠা অভ্যাস ও পরিবর্তন কাটিয়ে উঠতে মানুষ এখনো হিমশিম খাচ্ছে; বড়দের তো সমস্যা হচ্ছেই, শিশুরাও এর ব্যতিক্রম নয়।</p>
<p>আমরা ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে বড় করার চেষ্টা করি, আর তার শুরু হয় স্কুলিং দিয়ে। করোনার দীর্ঘ সময়ে সেই নিয়মশৃঙ্খলা যেন অন্যদিকে মোড় নিয়েছে, যা সামলে উঠতে এখন শিশুদের সাথে বাবা-মাও কষ্ট করছেন। সে সময় অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিভাইসের বিকল্প ছিল না; মোবাইল ও ট্যাবের প্রতি সেই আসক্তি এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি, ফলে শিশুদের দৈনন্দিন জীবন ও পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে।</p>
<p><strong>কীভাবে গঠনমূলকভাবে স্ক্রিন টাইম কমানো যায়</strong></p>
<p>দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলানো সহজ নয়। একেবারে ডিভাইস সরিয়ে নিলে বাচ্চা আক্রমণাত্মক আচরণ (হাত-পা ছোড়া, কান্না) করতে পারে; এমন পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে গায়ে হাত তোলা কোনো সমাধান নয়। বরং গঠনমূলক উপায়ে কমাতে হবে:</p>
<ol><li><strong>সময় ভাগ করে দিন:</strong> "২ ঘণ্টা পড়লে এরপর মোবাইল পাবে"—এতে পড়াশোনাও হলো, তার ইচ্ছাও পূরণ হলো।</li><li><strong>মিথ্যা আশ্বাস দেবেন না:</strong> নির্ধারিত সময়ে মোবাইল দেওয়ার কথা থাকলে তা-ই করুন, নইলে বাচ্চা আপনাকে আর বিশ্বাস করবে না।</li><li><strong>বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলুন:</strong> ধমক বা গায়ে হাত না দিয়ে তাদের মতো করে কথা বলুন; জানুন ফোনে তারা কী পাচ্ছে যা হয়তো আপনি দিতে পারছেন না।</li><li><strong>প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় একসাথে কাটান:</strong> হতে পারে খাবারের টেবিলে—তার স্কুল, বন্ধু ও দিনের মজার ঘটনার কথা জানুন।</li><li><strong>সপ্তাহে একদিন সবাই মিলে ঘুরতে যান।</strong></li></ol>
<p>সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিলে অনেকাংশেই স্ক্রিন টাইম কমানো সম্ভব। সবসময় শুধু বাবা-মায়ের জায়গা থেকে নয়, বন্ধুর জায়গা থেকেও সন্তানকে লালন-পালন করা যায়। তার নিজস্ব ছোট্ট পৃথিবীতে নিজেকে সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে জায়গা করে নিতে হবে—তবেই সন্তান সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে।</p>